নিজস্ব প্রতিনিধি:
দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে আগামী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকে বসতে চায় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি পাওয়ার পর ইসিতে গিয়ে নির্বাচন প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি কী—এসব বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। মাঠপর্যায়ে নির্বাচন আয়োজনের পুরো প্রক্রিয়াও কমিশনই পরিচালনা করবে।
মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। এর মধ্যে নির্বাচনের ব্যয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়সহ প্রশাসনিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় রয়েছে।
তফসিলের সিদ্ধান্ত ইসির
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য তফসিল সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির বিষয়ে আগে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। তফসিল কখন ঘোষণা করা হবে, সে সিদ্ধান্তও কমিশনই নেবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে হলে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির অবস্থা জানা জরুরি। কারণ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার সাংবিধানিক দায়িত্ব ইসির।
পাঁচ নির্বাচনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা
সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের পাঁচটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনকে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় অর্থ বাজেটে রাখা হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এসব নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, বরাদ্দ করা অর্থ চলতি অর্থবছরের মধ্যেই নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যয় করতে হবে। এ কারণে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আলোচনা করে পরিস্থিতি জানার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি, প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে আগামী সপ্তাহের আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ বা তফসিল সম্পর্কে এ পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।