নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাভারে চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ‘উজান টিভি’র কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাহিদ হাসান বাদী হয়ে শনিবার (২৯ আগস্ট) সাভার মডেল থানায় মামলাটি করেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহারে নাহিদ হাসান অভিযোগ করেন, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিল্টন সমাদ্দারের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটিতে পরিচয়হীন শিশু ও প্রবীণদের আশ্রয় এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় বলে তিনি জানতে পারেন।
নাহিদের ভাষ্য, গত ২৩ আগস্ট বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকায় প্রায় ৬৫ বছর বয়সী অসুস্থ ও পরিচয়হীন এক বৃদ্ধাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি উদ্ধার করেন। পরে তাকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বৃদ্ধার পরিচয় বা স্বজনদের সন্ধান না পাওয়ায় তিনি মিল্টন সমাদ্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই নারীকে তার প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় দেওয়ার অনুরোধ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে বৃদ্ধাকে আশ্রয় দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও পরে মিল্টন সমাদ্দার মাসিক ১৮ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে তাকে গ্রহণের কথা বলেন। বিষয়টি নাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ২৫ আগস্ট অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই বৃদ্ধাকে সাভারের চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়। নাহিদের অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তথ্যের জের ধরে মিল্টন সমাদ্দার, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার দেবাশীষসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান।
মামলার অভিযোগে নাহিদ আরও দাবি করেন, একপর্যায়ে মিল্টন সমাদ্দার তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সঙ্গে থাকা মো. ইলিয়াস হোসেনকেও মারধর করা হয়। হামলায় ইলিয়াসের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভয়ভীতি দেখিয়ে নাহিদের কাছ থেকে তার দায়মুক্তি ও ঘটনার পক্ষে বক্তব্য রয়েছে—এমন একটি ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নাহিদ ও ইলিয়াস ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নেন বলে তিনি দাবি করেছেন।
এর আগে ২৭ আগস্ট নাহিদ হাসান এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে মিল্টন সমাদ্দারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ২৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ অভিযোগ করেছিলেন, ওই বৃদ্ধাকে প্রতিষ্ঠানে নেওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে মারধর করা হয় এবং তার কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি—এমন বক্তব্য জোর করে ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।