সিফাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, তোলা হলো আদালতে

সিফাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, তোলা হলো আদালতে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য এবং রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারে জড়িত থাকার অভিযোগে গাজীপুরের গাছা এলাকা থেকে সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ মামলায় বাদী হয়েছেন থানার ওসি নিজেই।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাছা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিফাতকে আটক করা হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তাকে গাছা থানায় নেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে অভিযোগ

ওসি গোলাম রাব্বানীর ভাষ্য, সিফাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার যোগাযোগ থাকার বিষয়টিও পুলিশের নজরে এসেছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সিফাত বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ও পোস্ট দিয়ে আসছিলেন। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিলসংক্রান্ত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

বিষয়টি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের নজরে আসার পর তারা পুলিশকে অবহিত করেন বলে জানা গেছে। এরপর পুলিশ অভিযোগগুলো যাচাই করে অভিযান চালায়।

তবে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ বা সমস্যা ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ওসি জানিয়েছেন, বিষয়টি পুলিশ এখনো যাচাই করেনি।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তদন্তে

পুলিশের কাছে থাকা তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, সিফাতের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যোগাযোগ ছিল এবং তিনি রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং কথিত রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রকৃতি কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওসি গোলাম রাব্বানী বলেন, সিফাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য ও পোস্ট, কথিত রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার যোগাযোগের ধরন এবং তিনি বাস্তবে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

এনসিপির সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য মেলেনি

সিফাতকে আটকের পর বৃহস্পতিবার রাতে গাছা থানায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতাকর্মীকে দেখা গেছে—এমন আলোচনা স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে এ বিষয়ে পুলিশের কাছে সিফাতের সঙ্গে এনসিপির কোনো ধরনের যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ওসি গোলাম রাব্বানী।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তে সিফাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড, কথিত রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা ও তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top