শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে উদ্যোগ, ২০ জুলাই বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে রাজপথে থাকা রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০ জুলাই শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শরিক দলগুলোর কাছে দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

শরিক নেতাদের অভিযোগ, সরকার গঠনের পর তাদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতির খুব অল্প অংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। এ কারণে জোটের ভেতরে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতেই প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্যোগ নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ২০ জুলাই একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী খোলামেলা আলোচনা করবেন। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, যেসব শরিক দলের নেতারা ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পারা শরিক নেতাদের মূল্যায়ন এবং তাদের প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা বেশি গুরুত্ব পাবে।

শরিক দলগুলোর একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। কেউ কেউ সরাসরি তারেক রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়েই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে জেনেছেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দিন-তারিখ জানানো হয়নি।

এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদও জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই শরিকদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং ২০ জুলাই তার সম্ভাব্য তারিখ।

ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, চলতি সপ্তাহেই নৈশভোজের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে ক্ষমতার অংশীদারত্ব ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে শরিকদের যেসব আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন পর্যাপ্তভাবে দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে শরিকদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা দূর করে জোটের ঐক্য অটুট রাখাই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top