নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন যেকোনো ঘটনা ভারত সরকারের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়া এবং ভারত থেকে অবৈধভাবে মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর (পুশইন) অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে বলেও সংসদে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
কুলাউড়া সীমান্তবর্তী নির্বাচনি এলাকার সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ কূটনৈতিক অগ্রগতি জানতে চান। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে উসকানি, বিরোধ কিংবা অস্থিতিশীলতার যেকোনো ঘটনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
তিনি বলেন, সীমান্তকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বা অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়—এমন প্রতিটি বিষয় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি নাগরিকদের সীমান্তে হত্যার ঘটনা এবং ভারত থেকে অবৈধ পুশইনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিয়মিত যোগাযোগের কথাও তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বছরে দুইবার বিজিবি ও ভারতের বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ গত ৮ থেকে ১১ জুন ভারতের নয়াদিল্লিতে দুই বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
খলিলুর রহমান জানান, সীমান্তে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বৈঠকে তা উত্থাপনের পাশাপাশি কূটনৈতিক চিঠির মাধ্যমেও ভারত সরকারের কাছে বিষয়টি জানানো হয়। স্থানীয় পর্যায়েও বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রয়োজন দেখা দিলে প্রতিবাদলিপি দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার কোনো ছাড় দেবে না। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষেও বাংলাদেশ।
তবে সেই সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক সম্মান, একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সরকারের অবস্থান উঠে আসে।