মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের লিয়াকত আলী স্মৃতি স্কুল ও কলেজের বালিকা শিফটে বোরকা ও নিকাব পরা ছাত্রীদের নিয়ে শিক্ষকদের কটূক্তি ও অপমানের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিষ্ঠানটিতে দুই শিফটে পাঠদান হয়। সকালে বালিকা ও বিকেলে বালক শিফটে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হয়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট সকালে অ্যাসেম্বলি শেষে বোরকা পরা কয়েকজন ছাত্রীকে সামনে ডেকে তাদের নিকাব নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ছাত্রীদের উদ্দেশে বলা হয়, “সাদা নিকাব পরোনি কেন?” কোনো ছাত্রী নিকাব পাওয়া যাচ্ছে না জানালে তাকে নিকাব খুলতে বলা হয়। এমনকি “নিকাব না খুললে তোমাদের চিনতে পারি না” এমন কথাও বলা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, এ সময় ছাত্রীদের উদ্দেশে বলা হয়, “তোমরা যদি নিকাব না খুলতে পারো, তাহলে মাদ্রাসায় গিয়ে পড়। স্কুলে কেন পড়তে আসছ?”
ঘটনার সময় উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে সৈয়দ আলী মাস্টার, বিলাল মাস্টার, আয়ুব মাস্টার, সাকিল মাস্টার, মেহেদী মাস্টার ও হরিদাস মাস্টারসহ আরও কয়েকজন ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন ছাত্রীর কাছ থেকে তাদের অভিভাবকদের মোবাইল নম্বর নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বালিকা শিফটে ছাত্রীদের পোশাক ও নিকাব সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হলে তা যথাযথভাবে নারী শিক্ষক বা শিক্ষিকার মাধ্যমে সমাধানের ব্যবস্থা ছিল কি না। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পোশাক ও ধর্মীয় অনুশীলন নিয়ে শিক্ষকদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
অভিভাবকদের প্রশ্ন, ছাত্রীদের অভিভাবকদের মোবাইল নম্বর কী কারণে নেওয়া হয়েছে এবং এসব নম্বর কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে এ বিষয়টিও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা শিক্ষকদের অন্যতম দায়িত্ব। কোনো শিক্ষার্থী যেন তার পোশাক, নিকাব বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে অপমান, কটূক্তি, হয়রানি কিংবা বৈষম্যের শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য লিয়াকত আলী স্মৃতি স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ, উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য গ্রহণ, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের বক্তব্য নেওয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য প্রকাশ পাবে এবং ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী তার পোশাক বা ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলনের কারণে অপমানিত বা হয়রানির শিকার হবে না।