মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের অবাধ চলাচলে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের বামনা-বামনি ও হরিসচন্দ্রপাঠ এলাকায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় সড়ক-ঘাট, আবাদি জমি ও বসতবাড়ি। একই সঙ্গে ভারী যানবাহনের কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এসবের প্রতিবাদে এবং অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চলাচল বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে হরিসচন্দ্রপাঠ এলাকায় মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হচ্ছে। বালু বহনের কাজে ব্যবহৃত ভারী ড্রাম ট্রাক স্থানীয় সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল করায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের মাটি সরে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুবাহী ট্রাক চলাচলের সময় সড়কে ধুলাবালি উড়ছে। এতে পথচারী, শিশু ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ভারী ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে ছোট যানবাহন ও শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরু ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে দ্রুতগতির ভারী যান চলাচল করায় অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
এলাকাবাসী আরও জানান, বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের আবাদি জমি ও বসতবাড়ি ক্ষতির মুখে পড়ছে। কোথাও মাটি সরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে কৃষিজমির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বসতভিটা ও স্থানীয় অবকাঠামোও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বালু একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। কিন্তু আইন ও পরিবেশগত বিধিবিধান উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন করলে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে জনজীবন, কৃষি ও পরিবেশের ওপর। তাই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বালু পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়গামী সড়কে ভারী ড্রাম ট্রাক চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার এবং বালু উত্তোলনের স্থানগুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিনে পরিদর্শনের দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে মোক্তার হোসেন, সেলিম রেজা, সুজাউল আজাদ, লিটন, ফরিদুল ইসলাম, মহুবার রহমান, হেলালউদ্দিন, মোস্তাফিজার রহমান, মনছুর আলী, সিদ্দিকুল, কছিরউদ্দিন, লতিফার রহমান, রাজ্জাক, জুয়েল, ইলিয়াসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, জনস্বার্থে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করলেই হবে না; বালু উত্তোলনের উৎস, পরিবহন ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-জমি-বসতবাড়ির বিষয়টি সমন্বিতভাবে তদন্ত করে স্থায়ী সমাধান করতে হবে।