বালিয়াকান্দিতে গোপন বিয়ের তিন বছর পর পুরোনো প্রেমের টান, সালিশে প্রথম স্বামীর ঘরে ফিরলেন তরুণী

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বাঁধুলি খালকুলা এলাকায় প্রেম, গোপন বিয়ে ও দাম্পত্য জটিলতাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে এক গৃহবধূকে তার প্রথম স্বামী হিসেবে দাবি করা ব্যক্তির কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাইহান মৃধা (২৪) ও পপি খাতুনের (২২) মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় তিন বছর চার মাস আগে তারা গোপনে কোর্ট ম্যারেজ করেন বলে দাবি করা হয়। তবে বিষয়টি গোপন রেখেই পরবর্তীতে রাইহান মৃধার ঘনিষ্ঠ বন্ধু নুরইসলামের (২৫) সঙ্গে পপি খাতুনের বিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিয়ের পর নুরইসলাম ও পপি খাতুনের সংসার চলছিল এবং তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে রাইহান মৃধারও দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয়দের দাবি, পুরোনো প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে রাইহান ও পপির মধ্যে গোপনে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। এর আগেও একাধিকবার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে পপি খাতুনের স্বামী নুরইসলাম তাকে ক্ষমা করে সংসারে ফিরিয়ে নেন বলে জানা যায়।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে রাইহান মৃধা ও পপি খাতুনকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সালিশে স্থানীয় ইউপি সদস্য মুকুল শিকদার, মহল্লার মাতব্বর মোঃ শাহিন শেখ, প্রিন্স সবুজ, নুরইসলামের পরিবারের অভিভাবক মোঃ কবির হোসাইনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া জুয়েল মণ্ডল, হিরু মণ্ডল, চঞ্চল শেখ, ইলিয়াস মণ্ডল, আনোয়ার শেখ, সাগর শেখ ও এনামুল মৃধাসহ স্থানীয় ব্যক্তিরাও সালিশে অংশ নেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সালিশের মাধ্যমে পপি খাতুন ও নুরইসলামের দাম্পত্য সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটানো হয়। পরে পপি খাতুনকে তার প্রথম স্বামী হিসেবে দাবি করা রাইহান মৃধার কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং নতুন করে তাদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

তবে এ ঘটনায় কোনো লিখিত আইনি নথি, আদালতের আদেশ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কোর্ট ম্যারেজ, তালাক ও পরবর্তী বিয়ের আইনগত বৈধতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top