নিজস্ব প্রতিনিধি:
ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে গণশুনানি শেষে নতুন নাম অনুমোদন করেছে জেলা প্রশাসন।
রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা শেষে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান নতুন নামগুলো ঘোষণা করেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলার মীরবাড়ি ইউনিয়ন এখন থেকে বেতগাড়ি ইউনিয়ন নামে পরিচিত হবে। একইভাবে মোকামতলা উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের নতুন নাম রাখা হয়েছে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন এবং দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে রহবল ইউনিয়ন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, স্থানীয় পর্যায়ে মতামত সংগ্রহ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নতুন নামের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এখন বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পর সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন নামগুলো কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। তখন মীরবাড়ি, সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম নামে ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।
নাম ঘোষণার পরই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। সমালোচকদের দাবি ছিল, কয়েকটি ইউনিয়নের নাম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পারিবারিক পরিচয় ও স্বজনদের নামের সঙ্গে মিল রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার জন্ম দেয়। সংসদেও এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
যদিও প্রতিমন্ত্রী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইউনিয়নগুলোর নাম ভৌগোলিক অবস্থান, প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং স্থানীয় মতামতের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। তার দাবি, নামের মিল সম্পূর্ণ কাকতালীয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় এলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নাম পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত জুন মাসে দুই দফায় গণশুনানির আয়োজন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত সংগ্রহের ভিত্তিতেই নতুন নামের সুপারিশ প্রস্তুত করা হয় এবং তা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়।
সর্বশেষ জেলা প্রশাসনের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে তিনটি ইউনিয়নের নতুন নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সরকারি গেজেট প্রকাশ হলে নতুন নামগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।