নিজস্ব প্রতিনিধি:
কওমি ধারার সাতটি ইসলামী রাজনৈতিক দলকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক জোটে রূপ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ উদ্যোগে বিদ্যমান রাজনৈতিক জোটগুলোর ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় কওমি ধারার সাতটি ইসলামী দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় ভবিষ্যতে পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়েছে।
সভা শেষে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, অংশগ্রহণকারী দলগুলো একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে পরবর্তী কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ছিল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও জোটের শরিক নেতারা বলছেন, নতুন এই উদ্যোগ তাদের বিদ্যমান রাজনৈতিক সমঝোতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির আহ্বায়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১১ দলের ঐক্য গড়ে উঠেছিল নির্বাচনী সমন্বয়ের ভিত্তিতে এবং বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও শরিক দলগুলো একসঙ্গে কাজ করছে। তবে তার দাবি, চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দুর্বল করার উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে কোনো মহল বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করতে পারে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, হেফাজতের উদ্যোগ মূলত কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সুসংহত করার প্রচেষ্টা। এটি বিদ্যমান রাজনৈতিক জোটের বিকল্প নয়। তার মতে, সংসদ ও রাজপথে চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচি আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদেরও জানান, এ উদ্যোগ নিয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা শেষে বিস্তারিত অবস্থান জানানো হবে। তবে ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্য অব্যাহত থাকবে বলেই তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহারও একই ধরনের মত প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় রাজনীতির প্রশ্নে বিদ্যমান সমন্বয় বহাল রয়েছে। নতুন উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হেফাজত সূত্রে জানা গেছে, কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান মতপার্থক্য দূর করে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের কাছে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। দলগুলো নিজ নিজ ফোরামে আলোচনা শেষে মতামত জমা দেবে।
আগামী আগস্টের শুরুতে আবারও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য ঐক্যের কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে বলে হেফাজতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।