নিজস্ব প্রতিবেদক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পরিসরে ডিজেল আমদানার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রায় ১৬ লাখ টন ডিজেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
বুধবার (২২ জুলাই) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপনের কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে মোট ১৫টি চালানের মাধ্যমে ডিজেল সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ওমানভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫০ হাজার টন ডিজেল জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয়ের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। এ চালানের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০৩ কোটি টাকা।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় আগের সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি, শিল্প এবং পরিবহন খাতে জ্বালানির ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় রাখতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই দিনে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় প্রস্তাবও বিবেচনা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি খাতের জন্য এমওপি সার আমদানি, স্থানীয় বাজার থেকে মসুর ডাল ও পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল সংগ্রহ, খাদ্য সংরক্ষণের জন্য বস্তা ক্রয়, ভাসানচরে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কার্গো বার্থ পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগের বিষয়।
এ ছাড়া ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনের কাঁচামাল দ্রুত সংগ্রহের সুবিধার্থে আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা কমানোর নীতিগত অনুমোদনের প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক সংকটের সময়ে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় গ্রহণযোগ্য হলেও পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে কৌশলগত মজুত বৃদ্ধি এবং বিকল্প সরবরাহ উৎস নিশ্চিত করাও সমান প্রয়োজন।
সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, সময়োপযোগী এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব সত্ত্বেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট এড়ানো সম্ভব হবে।