নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও নৈশভোজের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ৪১টি শরিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রাজনৈতিক মহলে এটিকে সরকার ও মিত্রদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুসংহত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত নৈশভোজে শরিক দলগুলোর নেতারা দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা এবং অসন্তোষ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। আন্দোলনে ভূমিকা রাখার পরও যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগ এবং সরকার পরিচালনায় শরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর দাবি বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত নেতাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ভবিষ্যতে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সরকার পরিচালনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি শরিকদের অবদান স্বীকার করে পর্যায়ক্রমে তাদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দেন বলেও জানা গেছে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, নৈশভোজটি শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না; বরং দীর্ঘদিনের দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করে নতুন আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলার একটি প্রচেষ্টা ছিল। বৈঠকে ভবিষ্যতেও নিয়মিত সংলাপ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বৈঠক শেষে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শরিকদের সঙ্গে নতুনভাবে পথচলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তিনি সরকারকে আন্দোলনের সময়ের সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখা এবং ঘোষিত রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নে শরিকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অত্যন্ত প্রয়োজন। তার মতে, এ ধরনের বৈঠক ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
এ ছাড়া বৈঠকে অংশ নেওয়া আরও কয়েকজন নেতা মনে করেন, সরকারের সঙ্গে শরিক দলগুলোর যোগাযোগ বাড়লে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নেও সমন্বয় সহজ হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে শরিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ও নৈশভোজ রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহন করছে। ভবিষ্যতে এই সংলাপ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয়।