স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক:

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধু ঋণখেলাপিই নয়, ঋণের গ্যারান্টার হিসেবে খেলাপি, বিভিন্ন ইউটিলিটি সেবার বিল বকেয়া থাকা ব্যক্তি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে কর্মরত ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন না।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে কমিশন একমত হয়েছে।

নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি হলে যেমন নির্বাচনে অযোগ্য হবেন, তেমনি কারও ঋণের জামিনদার বা গ্যারান্টার হিসেবে খেলাপি হলেও তিনি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ হারাবেন।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ওয়াসা, ভূমি করসহ সরকারি বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো বকেয়া বিল থাকলেও তা প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে বিবেচিত হবে। ব্যক্তিগত এবং প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা—উভয় ধরনের বকেয়া এই বিধানের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সংজ্ঞা অনুযায়ী লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদেরও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হিসেবে বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায়ও পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন আইনে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা সমানভাবে উল্লেখ নেই। এ কারণে পাঁচটি আইনেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার আইনি ভিত্তিও যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, কমিশনের অনুমোদিত সুপারিশগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করলে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণবিধিতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হবে।

এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা কমানোর বিষয়েও কমিশনে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ১৬ বছর বয়স থেকে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও ভবিষ্যতে এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি কিংবা প্রাথমিক স্তর থেকেই তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। পরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top