সাবেক মেয়র খোকনের দেশত্যাগ ঘিরে নতুন অভিযোগ, অর্থ পাচারসহ নানা তথ্য সামনে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা সেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহর দেশত্যাগ এবং বিদেশে অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সরকার পরিবর্তনের প্রাক্কালে তিনি বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ নিয়ে বরিশাল ত্যাগ করেন এবং পরে সেই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গভীর রাতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বরিশাল ছাড়েন খোকন আব্দুল্লাহ। এরপর তিনি কয়েক মাস খুলনায় অবস্থান করেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরে সীমান্তপথে ভারতে প্রবেশ করে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, দেশ ছাড়ার সময় তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ সঙ্গে নিয়েছিলেন। পরে হুন্ডি চক্রের মাধ্যমে সেই অর্থ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের চেষ্টা করা হয়। তবে এসব তথ্যের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এদিকে আরও অভিযোগ উঠেছে, দেশত্যাগের পর খুলনায় অবস্থানকালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের বিলসংক্রান্ত চেকে পূর্বের তারিখ উল্লেখ করে স্বাক্ষর করেছিলেন সাবেক এই মেয়র। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মাধ্যমে চেকগুলো তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। তদন্তে তার দায়িত্ব পালনকালীন আর্থিক কার্যক্রম ও সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বর্তমানে খোকন আব্দুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং সেখানে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক মেয়রের ব্যবহৃত একাধিক ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে। তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনও জানিয়েছেন, বর্তমানে তার সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশত্যাগ, অর্থ পাচার এবং সরকারি দায়িত্ব পালনকালে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে থাকা প্রশ্নেরও অবসান হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top