বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে বিদেশি উদ্যোক্তাদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন শিল্প ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘এফডিআই সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় কিংবা বিদেশি—যে কোনো বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সরকার তার পাশে থাকবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, দেশের দ্রুত সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ কর্মশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনগণের সমর্থনপুষ্ট সরকার বাংলাদেশকে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্যে পরিণত করেছে।

নিজের ব্যবসায়িক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না; কার্যকর সরকারি নীতিমালা এবং অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, একটি নিয়মভিত্তিক, বেসরকারি খাতনির্ভর এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আধুনিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের চাহিদা অনুযায়ী আইনগত সুরক্ষা, করব্যবস্থা সহজীকরণ, মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুবিধা, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর, বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক লক্ষ্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স, কৃষিভিত্তিক শিল্প, উন্নত বস্ত্রখাত, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিকস খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বক্তব্যের শেষাংশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শুধু বিনিয়োগের একটি বাজার নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্য। দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বানও জানান তিনি।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top