নিজস্ব প্রতিবেদক:
টানা বর্ষণের প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাঁচাবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দামও। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অনেক সবজিই এখন ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম কেজিতে প্রায় ১২০ টাকা, করলা ও ঢ্যাঁড়শ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ও ঝিঙা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং শসা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। এছাড়া টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এবং একটি লাউ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা।
তুলনামূলকভাবে পেঁপে ও গাজরের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে বর্তমানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ টাকায়।
সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে কাঁচা মরিচে। এক মাস আগেও যে মরিচ অনেক কম দামে পাওয়া যেত, বর্তমানে তার দাম দ্বিগুণেরও বেশি। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৮০ টাকার মধ্যে।
বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতাই নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, বৃষ্টি শুরু হলেই প্রায় প্রতিবছর একই অজুহাতে বাজারে দাম বাড়ানো হয়। এতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য দৈনন্দিন খরচ সামাল দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, অতিবৃষ্টির কারণে কৃষিজমিতে পানি জমে অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে স্বাভাবিকভাবে পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পাইকারি বাজারেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে এবং মাঠ থেকে নতুন সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বাজারে মূল্যচাপ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বৃষ্টির প্রকোপ কমে উৎপাদন ও পরিবহন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে সবজির দামও কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।