নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে খুব শিগগির তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ অবস্থায় সাংবিধানিক বিধান অনুসারে শূন্য হওয়া রাষ্ট্রপতি পদে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
শুক্রবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শনিবার কমিশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও রোববার কিংবা তার পরের কার্যদিবসে কমিশনের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক তফসিল প্রকাশ করা হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পর তফসিল ঘোষণা করা হবে। জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সদস্য এ নির্বাচনের ভোটার হিসেবে অংশ নেবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে বৈধভাবে একজন মাত্র প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে, যা সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এর আগে শুক্রবার স্বাস্থ্যগত কারণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান মো. সাহাবুদ্দিন। বিকেলে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে নিজের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতা এবং ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। এসব কারণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।