নিজস্ব প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনে আর কোনো আইনি জটিলতা নেই। তার দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
বুধবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, এ মামলার আবেদনকারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চাইলে নিয়মিত আপিল দায়ের করার সুযোগ পাবেন।
আদালতের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে আর কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা নেই।
এর আগে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। তিনি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীরকে সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়েছিলেন।
দুই দিন শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলেও ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন নুরুল আমীন। পরে নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করলে সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান সরোয়ার আলমগীর।
হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলে বিষয়টি আপিল বিভাগে গড়ায়। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।
নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরও আদালতের নির্দেশনার কারণে তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। পরে হাইকোর্ট তার প্রার্থিতাকে বৈধ ঘোষণা করলে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে এবং তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
এরপর ওই রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে নতুন আবেদন করা হলেও সর্বশেষ আপিল বিভাগের আদেশে সেই আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ পড়ে। ফলে চট্টগ্রাম-২ আসনের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সরোয়ার আলমগীরের সাংসদীয় দায়িত্ব পালনের পথ সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত হয়েছে।