ধামা ইলিয়াছের তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি করেছে পুলিশ। মামলার এক আসামিকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং আরও কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, গত জুনে সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করে আদালতের অনুমতি নিয়ে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধামা ইলিয়াছ সন্ত্রাসী চক্রের কার্যক্রম, অস্ত্রের অবস্থান এবং সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী নেটওয়ার্কের সক্রিয় সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

এসব তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ জুলাই যশোর জেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমন, আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল, শামীম এবং সাফায়েত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে যশোর জেলা পুলিশও সহযোগিতা করে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র এবং চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও তার নাম উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযানে ফটিকছড়ি উপজেলার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে সন্ত্রাসী চক্রের আরও সদস্যকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, অর্থায়নের পথ এবং চক্রটির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তদন্ত চলছে।

তিনি আরও জানান, সংঘবদ্ধ অপরাধ, অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top