রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবাইকে গাছ লাগাতে হবে। সবুজ-শ্যামল পরিবেশ গড়ে তোলা এবং জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকানোর মহৎ উদ্যোগ নিয়ে লালমনিরহাটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী ‘জেলা বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬’। ‘
বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই মূল সুরকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের ঐতিহ্যবাহী কালেক্টরেট মাঠে বর্ণিল এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে আনন্দমুখর পরিবেশে বেলুন উড়ানো এবং লাল ফিতা উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এই পরিবেশবান্ধব আসরের শুভ সূচনা করেন প্রধান অতিথি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। উদ্বোধনী পর্বের পর মন্ত্রী উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে উন্নত জাতের ফলদ, বনজ ও ভেষজ চারাবৃক্ষ উপহার হিসেবে বিতরণ করেন।
উদ্বোধন শেষে এক আলোচনা সভায় লালমনিরহাটের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “প্রকৃতির ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নানামুখী বিপর্যয় মোকাবিলায় সারা দেশে বেশি করে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, কেবল চারা রোপণ করলেই নাগরিক দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বৃক্ষটি যেন সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে, সেজন্য নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।
যে কোনো ভালো কাজের পথেই নানা প্রতিকূলতা থাকে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সব বাধা পেরিয়েই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ফলমূল মানুষের শারীরিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শৈশব থেকেই পরিবেশপ্রেমী করে গড়ে তুলতে এবং বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা শেখাতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভূমিকা রাখা অত্যান্ত জরুরি।
এবারের মেলায় মোট ৩০টি সুসজ্জিত স্টল বসানো হয়েছে, যেখানে প্রদর্শনী ও কেনাবেচার জন্য দেশি-বিদেশি হরেক প্রজাতির চারা তোলা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, প্রাত্যহিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও যেন সাধারণ মানুষ চারা সংগ্রহ করতে পারেন, সেজন্য প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে ঘুরে স্টলগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং নার্সারি মালিকদের উৎসাহিত করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যন্যদের বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বি,এন,পি”র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক। লালমনিরহাট জেলার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনাকারী একমাত্র সাহসী সৎ ও নিষ্টাবান পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান,সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. শাইখুল আরেফিন, লালমনিরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু ইমাম রাশেদুন্নবী এবং নার্সারি মালিকদের পক্ষে রাসেল ভুঁইয়া প্রমূখ।