নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের টেকসই সমাধানে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সমতলের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এনসিপি আয়োজিত ‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ওই অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি। তার দাবি, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সরকারের জবাবদিহিতার অভাবকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কার এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে পার্বত্য অঞ্চল থেকেও সোচ্চার ভূমিকা প্রয়োজন। তার মতে, রাষ্ট্র পরিচালনায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে না।
পাহাড়ের চলমান বাস্তবতা তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, পার্বত্য এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বঞ্চনা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা বিদ্যমান। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর রাজনৈতিক উদ্যোগ ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী যেমন বৈষম্যের শিকার, তেমনি সেখানে বসবাসরত বাঙালিদেরও নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এই বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে বহিরাগত শক্তি ফায়দা লোটার সুযোগ পায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশের সব নাগরিকের পরিচয় এক এবং জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। উন্নয়ন, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং সাংবিধানিক সমঅধিকার নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়-সমতল উভয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
তিনি বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোরও সমালোচনা করে বলেন, অতীতের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সব ধরনের বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিন। এতে দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সারোয়ার, আলী আহসান জুনায়েদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।