শেখ হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া জুলাই শহীদদের প্রতি অসম্মান: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভারতের মাটিতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তার অভিযোগ, এ ধরনের পদক্ষেপ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল এবং এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার পরিপন্থী।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভীর ভাষ্য, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দাবিদার একটি দেশে বাংলাদেশের পলাতক সাবেক সরকারপ্রধানকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো মানুষের স্মৃতির প্রতি অসম্মানজনক। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশে বিভিন্ন হত্যা, দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলার বিচার চলছে এবং কয়েকটি মামলায় আদালতের রায়ও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনি কাঠামোর আলোকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এ বিষয়ে এখনো প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। তার মতে, একজন পলাতক আসামিকে প্রত্যাবাসনের পরিবর্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নেও উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অংশগ্রহণে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে পরোক্ষ হস্তক্ষেপের বার্তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাসের সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ ধরনের উদ্যোগ সেই সম্পর্ককে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

রিজভীর দাবি, বিষয়টি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিল। তবে তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় তিনি এটিকে পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া শিক্ষার্থী, তরুণ ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাসকে খাটো করার যে কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানোই হওয়া উচিত সব পক্ষের দায়িত্ব।

নিজের বক্তব্যের শেষদিকে রিজভী দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বারবার নানা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তার দাবি, ভবিষ্যতেও এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top