নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে ভারত শেখ হাসিনাকে আবারও একটি ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, অতীতে এ কৌশল কার্যকর হলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা আর সম্ভব হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ‘শহীদ জুলাই স্মৃতি সংসদ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া একটি পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ। তার দাবি, যে দেশ নিজেকে বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় দেয়, তাদের এমন অবস্থান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রতি অসম্মানজনক।
তিনি আরও বলেন, একজন পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে অন্য দেশের মাটিতে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকেও প্রশ্নের জন্ম দেয়। তার অভিযোগ, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বিভিন্ন বার্তা ও অডিও প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
রিজভীর ভাষ্য, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দিনেই তাকে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আপত্তির কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংশ্লিষ্ট দেশের প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া এমন আয়োজন সম্ভব কি না।
বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তার মতে, আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে বিভাজন তৈরি হলে তা গণতান্ত্রিক শক্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং এতে পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু। এতে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মো. কামরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।