মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজধানী ঢাকার মোহম্মদপুর এলাকায় একটি আবাসিক ফ্লাট বিক্রির নামে এক আইনজীবীর সাথে প্রতারণা ও ৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রাজবাড়ীর টেইলার্স ব্যবসায়ী আক্তারুজ্জামান আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতের বিচারক মোঃ মহসিন হাসান এ আদেশ প্রদান করেন। এর আগে রাজবাড়ী সিআইডি’র উপ-পরিদর্শক মোঃ রাশেদুর রহমান তদন্তপূর্বক ঘটনার সত্যতার ভিত্তিতে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলা বার এসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি এ্যাড, শফিউল আলম খোকনের স্ত্রীর আপন ফুপাতো ভাই অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামান আক্তার। তার বাড়ী রাজবাড়ী জেলা সদরের দাদশী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায়। পিতার নাম মৃত দানেজ মন্ডল।
অভিযোগ রয়েছে, আসামী আক্তার রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান মেইন রোড এ নিজ মালিকানাধীন আরাফাত টাওয়ারে বাড়ী নং ১১ ব্লক সি এর ৮/বি একটি ইনকমপ্লিট ফ্লাট ক্রয় বাবদ ২০১৯ সালে ২০ লক্ষ গ্রহণপূর্বক ওই ফ্লাটের দখল অর্পণ করে। পরবর্তীতে ওই ফ্লাটটি ব্যবহার উপযোগী করার জন্য নির্মাণ কাজ বাবদ ক্রেতার কাছ থেকে আরও ১০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে। এরপর থেকে ওই আইনজীবী স্ত্রী ও পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘ ৭ বছর ওই ফ্লাটে বসবাস করতে থাকেন। এরপর আসামী আক্তার রেজিষ্ট্রি করার জন্য আজকাল করে ঘুরাইতে থাকে। এরই মধ্যে গত বছর ৩১ ডিসেম্বর আক্তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে ওই আইনজীবী পরিবারকে ফ্লাট থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। ইতোমধ্যে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ওই মামলায় আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছে। এদিকে রাজবাড়ীতে নিজ শ্বশুর বাড়ীতে ফ্লাট কেনা বাবদ আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আক্তারুজ্জামান আক্তারের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন এ্যাড, শফিউল আলম খোকন। রাজবাড়ী আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডির উপ-পরিদর্শক মোঃ রাশেদুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। উক্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।
মঙ্গলবার সিআইডির প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযুক্ত আসামী আক্তারুজ্জামান আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ প্রদান করেন।