মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে গ্রাহকদের কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তৎকালীন পোস্টমাস্টার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও বর্তমানে কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠা আরও ছয় কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আবুল কালাম আছাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তৎকালীন পোস্টমাস্টার ও বর্তমানে কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরে কর্মরত সহকারী পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত ৪ আগস্ট দক্ষিণাঞ্চল খুলনার পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির আহমেদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে ও সরকারি কাজের স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের দায়ে একই বিধিমালার ১২ ধারা মোতাবেক তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্তকালীন সময়ে তাকে নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে হবে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া সদর দপ্তর ত্যাগ করতে পারবেন না। এ সময় বিধি অনুযায়ী তিনি খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। অফিস আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের কাছে চার্জ রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠা রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টাল অপারেটর, ট্রেজারার ও এমএলএসএসসহ আরও ছয় কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গত ৯ আগস্ট কুষ্টিয়ার ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয় থেকে এসব নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অভিযোগ ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা নির্ধারিত কর্মকর্তা ও ফরম এড়িয়ে জমা স্লিপের মাধ্যমে ৭৪ জন গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ১ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরে ওই টাকা ডাকঘরের ট্রেজারিতে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
পরবর্তীতে ১৩ জন গ্রাহককে ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও ৬১ জন গ্রাহকের ৯১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিহাব মৃধা আত্মগোপনে রয়েছেন।
বিভাগীয় তদন্তে শিহাব মৃধার পাশাপাশি তৎকালীন পোস্টমাস্টার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস, মাহবুব হাসান মৃধা, রেজাউল আলম, নাজমুল হাসান, গোলাম মোস্তফা বাচ্চু ও প্রণব কুমার সরকারের সম্পৃক্ততার কথা উঠে আসে।
এ ঘটনায় গত ২ আগস্ট ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে ওই সাতজনের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া গ্রাহকদের পক্ষ থেকেও প্রতারণার অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
ডাক বিভাগের এ ঘটনায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং আরও ছয়জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় রাজবাড়ীসহ সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আত্মসাৎ হওয়া অবশিষ্ট টাকা দ্রুত ফেরত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।