মহাসড়কের পাশে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়: দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ গোয়ালন্দবাসী, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে ঝুঁকি

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মার মোড় এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে পৌরসভার ময়লার ভাগাড় গড়ে উঠেছে। পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন সংগ্রহ করা ময়লা-আবর্জনা সেখানে ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানের জবাই করা পশুর বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে ওই স্থানে। ফলে তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পথচারী, যাত্রী, যানবাহনের চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের এক পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে আছে ময়লার স্তূপ। এর পাশেই রয়েছে গোয়ালন্দ বিদ্যুৎ অফিস। প্রতিদিন শত শত মানুষ, অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী এ পথ দিয়ে চলাচল করেন। ময়লার স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে তাদের নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেকের বমি বমি ভাবও হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলায় পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। ময়লার স্তূপে সারাক্ষণ মশা-মাছির উপদ্রব থাকে। পচা আবর্জনা এবং তা পোড়ানোর ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এতে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, পথচারী, অফিসগামী মানুষ ও যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। স্থানীয়দের ভাষ্য, ময়লার স্তূপ থেকে কুকুর বিভিন্ন আবর্জনা টেনে মহাসড়কের ওপর নিয়ে আসে। এতে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বৃষ্টির সময় ময়লার নোংরা পানি মহাসড়কের পাশে ছড়িয়ে পড়ে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

এ ছাড়া ময়লার ভাগাড়ের পাশেই রয়েছে মরা পদ্মা নদী। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় আবর্জনা সরাসরি নদীর পানিতে গিয়ে মিশছে। ওই নদীর পানিতে স্থানীয়রা গোসল, কাপড় ধোয়া ও গবাদিপশু গোসল করানোর কাজ করেন। ফলে পানি ও পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

পথচারী মুস্তাকিন, আব্দুর রহিম, জাহানারা বেগম, কাজলি খাতুন ও রেশমা আক্তার এবং অটোরিকশাচালক রেজাউল করিম, সেলিম শেখ, রফিকুল ইসলাম ও সাগর মোল্লা বলেন, ‘এলাকাটিতে এত বেশি বর্জ্য জমে থাকে যে হাঁটাচলা করাই কষ্টকর। দুর্গন্ধে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া যায় না। কুকুর ময়লা রাস্তায় টেনে আনে। এতে অনেক সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।’

স্থানীয়রা দ্রুত মহাসড়কের পাশ থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে নির্দিষ্ট ও স্বাস্থ্যসম্মত স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধানেরও দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সাইফুল হুদা বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। ডাম্পিং স্টেশনের কাজ কতদূর এগিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলব। এরপর ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।’

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top