বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আমানউল্লাহ আমান, ছাত্ররাজনীতি থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান। শনিবার (১৫ আগস্ট) দলটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার নামসহ চার নেতাকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির তথ্য জানানো হয়।

নতুন করে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে স্থান পাওয়া অন্য তিন নেতা হলেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলো পূরণ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকটি শূন্য পদে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চলছিল। আমানউল্লাহ আমানের অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হলো।

আমানউল্লাহ আমানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯০-এর দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন।

১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—ডাকসুর সহসভাপতি নির্বাচিত হন আমানউল্লাহ আমান। ডাকসু নেতৃত্বের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয় এবং পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তফা মোহসিন মন্টুকে পরাজিত করেন আমানউল্লাহ আমান।

সংসদ সদস্য হওয়ার পর বিএনপি সরকারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। পরে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন আমানউল্লাহ আমান। দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি মামলা, কারাবরণ ও নানা রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন নেতাদের একজন হিসেবেও তিনি পরিচিতি পান।

কেরানীগঞ্জের রাজনীতিতে আমানউল্লাহ আমানের দীর্ঘদিনের প্রভাব রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ততার কারণে ওই এলাকায় তার একটি শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে। রাজধানীর কাছাকাছি কেরানীগঞ্জকে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ঢাকা-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন আমানউল্লাহ আমান। তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনী সাফল্য এবং দলীয় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্বের ক্ষেত্রেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ছাত্রনেতা থেকে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং দলীয় সাংগঠনিক নেতৃত্ব—বহু ধাপ পেরিয়ে এবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন আমানউল্লাহ আমান।

ব্যক্তিজীবনে আমানউল্লাহ আমান বিবাহিত। তার স্ত্রী সাবেরা আমান। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তারা বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় দলের নীতিনির্ধারণ, সাংগঠনিক কৌশল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণে আমানউল্লাহ আমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করছে দলটির নেতৃত্ব।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top