সাদ্দাম হোসেন সাইফ, বান্দরবান প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর কাঠালছড়া সড়কের প্রায় ২ কিলোমিটার কার্পেটিংয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখনো ভোগান্তির অবসান হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে ঠিকাদারের কাজের ধীরগতি ও সময়মতো কাজ শেষ না করা, অন্যদিকে ইটভাটার অতিরিক্ত মালবাহী ডাম্পার ও ভারী যান চলাচলের কারণে সড়কটি বারবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছুদিন আগে সড়ক সংস্কার করা হলেও তা এক সপ্তাহও ভালো থাকতে পারেনি। ইটভাটাগুলোতে অতিরিক্ত ইট পরিবহনের জন্য ডাম্পারসহ বড় বড় মালবাহী গাড়ি চলাচল করায় সড়কের স্থায়িত্ব নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবাদ করেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার নাজমুল হোসেন ভুইয়া ২০২৫ সালের জানুয়ারির শুরুতে কাজ শুরু করলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করে বর্তমানে কাজের জায়গায় অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
রাস্তার বেহাল অবস্থা ও ঠিকাদারের কাজের ধীরগতি নিয়ে লামা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আবু হানিফ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঈন উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে বলেও তারা জানান।
এদিকে সড়কের দুরবস্থার কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ইয়াংছা বাজার থেকে পাড়ায় যেতে আগে যেখানে ভাড়া ছিল ৩০ টাকা, বর্তমানে সেখানে ৬০–৭০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি যাতায়াতেও সময় ও ঝুঁকি বেড়েছে।
এক্ষেত্রে মোটরসাইকেল চালকদেরও খুব বেশি দোষ দেওয়ার সুযোগ নেই। বরং এমন ভাঙাচোরা সড়কে তারা কীভাবে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পরিবহন করছেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন চালক ও যাত্রীরা।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি সম্পূর্ণ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত ভারী ও ইটবাহী যান চলাচলের বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শুরু করে নির্ধারিত মান ও সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও কাঠালছড়ার মানুষের দুর্ভোগ যেন যুগের পর যুগ একই রয়ে গেছে। রাস্তা সংস্কারে বরাদ্দ আসে, কাজ শুরু হয়—কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই আবার সড়ক নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থার স্থায়ী সমাধানে প্রশাসন, এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
কাঠালছড়ার মানুষ আর প্রতিশ্রুতি নয়—চায় একটি টেকসই, নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য রাস্তা।