ফরিদপুরে কুয়েতপ্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: অস্ত্রের মুখে পরিবারকে জিম্মি করে ৩৩ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট

সাজ্জাদ হোসেন সাজু, ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বড় মাধবপুর এলাকায় কুয়েতপ্রবাসী এক ব্যক্তির বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রায় ৫০ মিনিট ধরে লুটপাট চালিয়ে ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ১৩ ভরি রুপার গহনা এবং নগদ টাকা নিয়ে গেছে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।

বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে বড় মাধবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুয়েতপ্রবাসী হেলাল ভূঁইয়ার স্ত্রী তানিয়া আক্তার (৩৫), দুই ছেলে সাবিত ভূঁইয়া (১২) ও নাশাত ভূঁইয়া (৮) এবং শাশুড়ি শেফালী বেগম (৭০) ওই বাড়িতে বসবাস করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা বাড়ির লোহার কেচি গেটে দুটি তালা লাগিয়ে এবং মূল দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন।

রাত আনুমানিক ১টার দিকে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল গেটের দুটি তালা ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে ৫-৬ জন ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে এবং অন্য সদস্যরা বাড়ির বাইরে পাহারা দেয়। ডাকাতদের হাতে পিস্তল, রামদা, চাপাতি, ছ্যানদা ও চাইনিজ কুড়াল ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন মুখে মাস্ক পরা ছিল।

ডাকাতরা শেফালী বেগম ও তার নাতি সাবিত ভূঁইয়ার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে সবাইকে চুপ থাকতে বলে এবং চিৎকার করলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর আলমারির চাবি নিয়ে দুটি স্টিলের আলমারি খুলে ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ১৩ ভরি রুপার গহনা এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা লুট করে।

এজাহার অনুযায়ী, লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা, রুপার গহনার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং নগদ টাকাসহ মোট লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।

প্রায় ৫০ মিনিট ধরে লুটপাট চালানোর পর ডাকাতরা বাইরে থেকে দরজায় হ্যাজবোল্ট লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের ঘরের ভেতরে আটকে রেখে পালিয়ে যায়। পরে শেফালী বেগম মোবাইল ফোনে তার জামাতা মো. আঃ হাকিম মিয়াকে বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে এসে দরজা খুলে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন।

এদিকে প্রতিবেশী জালিল ভূঁইয়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

এ ঘটনায় মো. আঃ হাকিম মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার পর বড় মাধবপুর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং এলাকায় পুলিশের টহল ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top