মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নে অনৈতিক সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে এক নারী ও এক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধর, গলায় জুতার মালা পরানো এবং কোমরে রশি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ওই নারীর চুল কেটে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্যাতনের শিকার গ্রাম পুলিশ সদস্য বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর ঘটনার পর সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ওই নারী বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের কাছে টাকা দাবি করা হয়েছিল। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
ভুক্তভোগী গ্রাম পুলিশ সদস্যের ভাষ্য, তিনি রাজবাড়ীর শ্রীপুর বাজারে কলা বিক্রি করেন এবং স্থানীয় বিভিন্ন দোকানে পাইকারি দামে কলা সরবরাহ করেন। গত ৯ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে শ্রীপুর বাজারে কলা বিক্রির সময় পূর্বপরিচিত এক নারী তার কাছ থেকে কলা নেন। এক হাজার টাকার নোট ভাঙতি না থাকায় টাকা পরে দেওয়ার কথা বলে ওই নারী চলে যান এবং টাকা নেওয়ার জন্য তাকে বাড়িতে যেতে বলেন।
গ্রাম পুলিশ সদস্যের অভিযোগ, ওই নারীর বাড়িতে যাওয়ার পর স্থানীয় আব্দুল কাদের বেপারীর ছেলে অটোরিকশাচালক লাভলু বেপারী তাকে ঘরের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে দুজনের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে চিৎকার শুরু করেন। একপর্যায়ে তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আশপাশের লোকজন ডেকে এনে তাকে মারধর করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তাকে ও ওই নারীকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এবং কোমরে রশি বেঁধে এলাকায় ঘোরানো হয়। ওই নারীর চুল কেটে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তারা মুক্ত হন।
চিকিৎসাধীন ওই গ্রাম পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আমি কলার টাকা আনতে গিয়ে অর্থদাবিকারীদের রোষানলে পড়েছি। আমার অপরাধ কী? টাকা না দেওয়ায় আমাকে মারধর করে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো হয়েছে। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।’
স্থানীয় কয়েকজন জানান, ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, তা তারা নিশ্চিতভাবে জানেন না। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নারী ও গ্রাম পুলিশ সদস্যকে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন ব্যক্তি ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। তাদের মতে, কোনো ঘটনা যাচাই না করে এভাবে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়।
পাঁচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান রতন বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার কেউ থানায় অভিযোগ দেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যা দেখেছি, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এভাবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।