সাদ্দাম হোসেন সাইফ, বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের রাইম্যাখোলা এলাকায় আইন অমান্য করে পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন।
অভিযানকালে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ১৫ ধারায় রাইম্যাখোলা এলাকার ৫টি ইটভাটাকে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তবে একই সঙ্গে তাদের মধ্যে রয়েছে হতাশা ও নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাইতং এলাকার কয়েকটি ইটভাটায় এর আগেও একাধিকবার অভিযান ও জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু জরিমানা পরিশোধের পরই অনেক ক্ষেত্রে ভাটাগুলোর কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে চলতে দেখা যায়। ফলে শুধুমাত্র অর্থদণ্ড আরোপ করে দীর্ঘমেয়াদে আইন লঙ্ঘন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।
সচেতন মহলের দাবি, অভিযান ও জরিমানা যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। কোনো ইটভাটা বারবার আইন লঙ্ঘন করলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবেশ, কৃষিজমি, পাহাড়, জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় সড়কের ওপর ইটভাটার ক্ষতিকর প্রভাবও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে লামা উপজেলার ফাইতং ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ইটভাটা চালু রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন সব এলাকায় সমানভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না, তা নিয়েও সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন যেন কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা কয়েকটি ভাটায় সীমাবদ্ধ না থেকে লামা উপজেলার সব ইটভাটার কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়। একই সঙ্গে যেসব ইটভাটা পরিবেশগত ছাড়পত্র, অনুমোদন কিংবা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘন করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
প্রশাসনের নিয়মিত ও দৃশ্যমান তদারকি অব্যাহত থাকলে পরিবেশ সুরক্ষা, পাহাড় ও কৃষিজমি রক্ষা এবং ইটভাটা খাতে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
তবে এখন দেখার বিষয়—৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার পর সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোর কার্যক্রমে কতটা পরিবর্তন আসে এবং লামা উপজেলার অন্যান্য ইটভাটার বিরুদ্ধেও প্রশাসন একইভাবে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করে কি না।