বড়পুকুরিয়ায় টানেল নির্মাণ শেষে ১৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই, পুনর্বহালের দাবিতে খনি এলাকায় চরম উত্তেজনা

রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে দীর্ঘ সুড়ঙ্গ (টানেল) তৈরির কাজ সম্পন্ন হওয়ার অজুহাতে ১৬৮ জন শ্রমিককে একযোগে ছাঁটাই করেছে সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। হঠাৎ জীবিকা হারিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভুক্তভোগী কর্মীরা। চাকরিতে পুনঃবহালের দাবিতে খনি প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল, কায়িক অবস্থান ও লাগাতার ধর্মঘট পালন করছেন তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে খনি জুড়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর জোরদার টহল দেখা গেছে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে পেট্রোবাংলার অধীনে কাজ করা মূল চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’ কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে তারা খনির ভূ-গর্ভস্থ টানেল তৈরির কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে মূল চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলে চীনা প্রতিষ্ঠানটি ‘জেএসএমই’ নামক একটি সাব-ঠিকাদারি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়।

সাব-ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি এই ১৬৮ জন কর্মীকে ৫ হাজার ৯০০ মিটার টানেল খনন কাজের দায়িত্ব দেয়। তবে গত শনিবার কাজ শেষ হওয়া মাত্রই তাদের চাকুরির প্রয়োজনীয়তা শেষ বলে চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়।
আন্দোলনরত কর্মীদের দাবি,খনির ১,০৪৩ জন সাধারণ শ্রমিকের মতোই তারাও মূল চুক্তির অংশ হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। হুট করে এভাবে চাকরিচ্যুত করা অমানবিক।

এদিকে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, কর্মহীন শ্রমিকরা খনি কর্তৃপক্ষের সরাসরি তালিকাভুক্ত নন, বরং চীনা ঠিকাদারের সাব-কন্ট্রাক্টর ‘জেএসএমই’-র মাধ্যমে নিয়োজিত ছিলেন। তাই আইনি ও কারিগরি দিক থেকে কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। তবে শ্রমিকদের মানবিক দাবির বিষয়টি আমলে নিয়ে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সাব-ঠিকাদারের সাথে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top