রংপুরে বেড়েছে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম, কমেছে কয়েক ধরনের সবজি

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রংপুরের বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পোলট্রি মুরগির ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। বিপরীতে কাঁচামরিচ, পটল, ঢেঁড়শ, গোল বেগুনসহ কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। তবে চাল, ডাল, মাছ ও গরু-খাসির মাংসের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রংপুর নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

খুচরা বাজারে লাল ডিমের দাম বেড়ে প্রতি হালি ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় উঠেছে। এক সপ্তাহ আগে একই পরিমাণ ডিম বিক্রি হয়েছে ৪৬ থেকে ৪৮ টাকায়। স্থানীয় বিক্রেতাদের দাবি, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মুরগির ডিম উৎপাদন কমেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।

স্টেশন বাজারের ডিম বিক্রেতা মিরাজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যার কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে ডিমের জোগান কমেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম।

সবজির বাজারে অবশ্য মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। গোল বেগুনের দাম কমে ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং পটল ও ঢেঁড়শের দাম নেমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা হয়েছে। কচুরমুখী ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং ধনেপাতা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে কিছু সবজির দাম বেড়েছে। গাজর ও টমেটো এখন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি, ঝিঙে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন মৌসুমের শিম বাজারে উঠেছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে।

কাঁকরোল, চালকুমড়া, শসা, লেবু, বেগুন, পেঁপে, করলা, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও কয়েক ধরনের শাকের দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। আলুর বিভিন্ন জাতের দামও খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।

মুলাটোল আমতলা বাজারের সবজি বিক্রেতা ভুট্টু মিয়া বলেন, বাজারে সবজির দাম একদিকে কমছে, আবার অন্যদিকে কয়েকটির দাম বাড়ছে। সরবরাহ ও মৌসুমি পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করেই প্রতিদিন দামে ওঠানামা হচ্ছে।

মুরগির বাজারেও দাম পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে। ব্রয়লার মুরগি এখন প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা ছিল। তবে পাকিস্তানি সোনালি মুরগির দাম কমে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা হয়েছে। পাকিস্তানি হাইব্রিড ২৮০ থেকে ২৯০, লেয়ার ৩৩০ থেকে ৩৫০ এবং দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০০ থেকে ২০৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিকন মসুর ডাল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, মাঝারি মসুর ১০০ থেকে ১১০ টাকা এবং মুগডাল বেড়ে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি হয়েছে। বুটের ডাল ১১০ থেকে ১২০ টাকা, ছোলাবুট ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আটার বাজারে প্যাকেট আটা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, খোলা আটা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা বেড়ে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি হয়েছে।

চালের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। স্বর্ণা মোটা চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, স্বর্ণা চিকন ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা, বিআর-২৮ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, বিআর-২৯ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং জিরাশাইল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।

মাছের বাজারও মোটামুটি স্থির রয়েছে। রুই মাছ ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৫৬০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, মৃগেল ২২০ থেকে ২৫০ এবং পাঙাস ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০, কাতল ৩০০ থেকে ৫০০, শিং ৩০০ থেকে ৪০০ এবং সিলভার কার্প ১৮০ থেকে ২৬০ টাকা দরে মিলছে। আকারভেদে গছিমাছের দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

সব মিলিয়ে রংপুরের বাজারে পণ্যের দামে একক কোনো প্রবণতা নেই। ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়লেও কয়েক ধরনের সবজিতে স্বস্তি ফিরেছে। অন্যদিকে চাল, মাছ, মাংস ও বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম এখনো আগের সপ্তাহের কাছাকাছি রয়েছে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top