সাদ্দাম হোসেন সাইফ, বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলার ইয়াংছা এলাকার শামুখছড়া ও মইত্যাইল্লার ঝিরি। একটি টেকসই সেতু ও ইট সলিং রাস্তার অভাবে এখানকার ৫ শতাধিক মানুষ বছরের পর বছর ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করছেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদায় পরিণত হয় সড়ক, আর মইত্যাইল্লার ঝিরিতে পর্যাপ্ত সেতু না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয় স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পাহাড়ি ঢল, কাদা ও স্রোতের কারণে শামুখছড়ার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা, অনেক সময় মানুষ পায়ে হেঁটেও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারেন না। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
নদী পার হয় শিক্ষার্থীরাও
শামুখছড়া ও মইত্যাইল্লার ঝিরি এলাকার অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন নদী পার হয়ে ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়, অংহলারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ইয়াংছা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতে যায়।
বর্ষাকালে নদীতে পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে এসব শিক্ষার্থীর যাতায়াত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। একইভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চিকিৎসাসেবা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে ইয়াংছা বাজারে যেতে হলেও স্থানীয়দের নদী পারাপারের ঝুঁকি নিতে হয়।
ভেঙে গেছে কাঠের সেতু
স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘবে কয়েক বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে মইত্যাইল্লার ঝিরির ওপর একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে অতিভারী বৃষ্টি ও নদীর পানির প্রবল স্রোতে সেটি বর্তমানে ভেঙে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
ফলে আগের চেয়েও দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয়দের মতে, কাঠের সেতি সাময়িকভাবে সংস্কার করলেও দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন একটি টেকসই ও স্থায়ী সেতু।
ইট সলিং রাস্তার দাবি
এলাকাবাসীর আরেকটি প্রধান দাবি হলো শামুখছড়ার কাঁচা সড়কটি দ্রুত ইট সলিং করে সংস্কার করা। তাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদায় পরিণত হওয়ায় স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি ইট সলিং করা হলে বর্ষাকালে চলাচলের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে এবং কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের জোর দাবি—মইত্যাইল্লার ঝিরির ওপর দ্রুত একটি টেকসই ও স্থায়ী সেতু নির্মাণ এবং শামুখছড়ার রাস্তা ইট সলিং করে সংস্কার করা হোক।
তাদের মতে, একটি ভালো রাস্তা ও স্থায়ী সেতু শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়; এটি ৫ শতাধিক মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
এখন শামুখছড়ার মানুষের প্রত্যাশা—তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
স্থানীয়দের ভাষায়, একটি ইট সলিং রাস্তা ও একটি স্থায়ী সেতুই হতে পারে শামুখছড়ার ৫ শতাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির পথ।