গুরুদাসপুরে প্রতিবন্ধীর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগ চার ভাতিজার বিরুদ্ধে

মোঃ নাঈম ইসলাম, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.

নাটোরের গুরুদাসপুরে মামলা চলমান অবস্থায় প্রতিবন্ধীর পৈত্রিক সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করে বসত বাড়ী নির্মানের অভিযোগ উঠেছে ভাতিজা জামাল হোসেন ও তার ৩ ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এঘটনায় গুরুদাসপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শারিরীক প্রতিবন্ধী মো. ওসমান আলী।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে নিজ পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেতে চার ভাতিজার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী ওসমান আলী। ওসমান আলী উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুরের মৃত জবান মোল্লার ছেলে। অভিযুক্ত চার ভাতিজা জামাল, জিল্লুর, খালেক ও জহির উদ্দিন একই গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত ২০১২ সালে তার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে চার ভাতিজা যোগসাজস করে একটি নকল দলিল তৈরি করে তার ১৯ শতাংশ ভিটা বাড়ির জমি দখল করার চেষ্টা করে। সে সময় প্রতিবন্ধী ওসমান আলী কোনো উপায় না পেয়ে নাটোর যুগ্ম জেলা জজ আদালতে নকল দলিলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৩০/২০১২ অঃ প্রঃ। এর পর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে জুলুম,অত্যাচার করে আসছে এবং জোরপূর্বক তার ভিটা বাড়িতে ঘরনির্মান করছেন চার ভাতিজা। তিনি তার জমি ফেরত পেতে এবং তার চার ভাতিজার শাস্তির দাবী জানান প্রশাসনের নিকট।

মামলার নথি ঘেটে দেখা যায়, চলমান মামলায় ২০২৪ সালের নভেম্বরের ৭ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে নকল দলিলের বিরুদ্ধে ওসমান আলীর পক্ষে রায় প্রদান করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্ট বিভাগ। এরপর দলীয় ক্ষমতা বলে পুনরায় ২০২৬ সালের জুন মাসের ২৪ তারিখে জোরপুর্বক জমি দখল করার চেষ্টা করেন তার চার ভাতিজা। এঘটনার প্রেক্ষিতে পরের দিন ২৫ তারিখে জিল্লুর রহমানসহ তার চার ভাতিজার বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জুলাই মাসের ১ তারিখে ৪৩০ নং স্বারকে নাটোর পিটিশন মোকদ্দোমা নং-২৮৭পি/২০২৬, ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৪৪/১৪৫ ধারা জারি করেন বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত, নাটোর। তফশীল অনুযায়ী উল্লেখিত জমিটি গুরুদাসপুর উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর মৌজার ২৭১ নং খতিয়ানে ২৯৭৮ দাগে ২৯ শতাংশের কাত পশ্চিমাংশে ১৯ শতাংশ বাড়ির ভিটা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জিল্লুর বলেন, আমার চাচা যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি বিগত সময়েও আমাদের নামে এমন ২০ টি মিথ্যা মামলা করেছে। এমন হয়রানীমূলক কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

গুরুদাসপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, আমি দুইদিন হলো থানায় যোগদান করেছি। বিষয়টি জেনে দ্রুত সময়ের মধ্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top