পাটকাঠি এখন আর বোঝা নয়, কৃষকের নতুন আয়ের উৎস: বালিয়াকান্দিতে প্রতি মণ পাটকাঠি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়, বাড়ছে চারকোল শিল্পের সম্ভাবনা

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

এক সময় পাটকাঠি ছিল কৃষকের কাছে বাড়তি বোঝা। পাট কাটার পর পাটকাঠি দিয়ে মূলত জ্বালানি, ঘরের বেড়া কিংবা ছাউনি তৈরির কাজই হতো। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পাটকাঠি অনেক সময় জমি কিংবা রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হতো। তবে সময় বদলেছে। পাটের আঁশের পাশাপাশি এখন পাটকাঠিও হয়ে উঠেছে কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে পাটকাঠির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। পাটকাঠি কিনতে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও চারকোল উৎপাদনকারীরা গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন। ফলে এক সময় অবহেলায় পড়ে থাকা পাটকাঠি এখন কৃষকের কাছে ‘রুপালি কাটি’ হিসেবে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।

কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাটকাঠি পুড়িয়ে তৈরি করা চারকোল থেকে কার্বন পাউডার উৎপাদন করা হয়। এ কার্বন পাউডারের দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চারকোল ও এর উপজাত রপ্তানি হচ্ছে। এতে পাটকাঠিকে ঘিরে দেশে নতুন শিল্পের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার কোমরদিয়া গ্রামের কৃষক ছরোয়ার শেখ বলেন, “আমি ১০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। পাট ধোয়ার পর এখন পাটকাঠি শুকাচ্ছি। চারকোলের মালিকরা গ্রামে গ্রামে এসে পাটকাঠি কিনছেন। প্রতি মণ পাটকাঠি প্রায় ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। আগে এগুলো পড়ে থাকত, এখন বিক্রি করে বাড়তি আয় হচ্ছে।”

স্থানীয় কৃষকদের মতে, পাট চাষের উৎপাদন খরচ দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় পাটের আঁশ বিক্রির পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করতে পারায় কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। এতে পাট চাষে আগ্রহও বাড়ছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার রতন কুমার ঘোষ বলেন, “পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষকরা উৎপাদন খরচের একটি অংশ পুষিয়ে নিতে পারছেন। পাটকাঠির ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকরা এর মাধ্যমে বাড়তি আয় করছেন। পাশাপাশি পাটকাঠিকে কেন্দ্র করে নতুন শিল্পের বিকাশ ঘটছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাট বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশে গড়ে উঠতে পারে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র।
পরিকল্পিতভাবে পাটকাঠি সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানির ব্যবস্থা করা গেলে এটি পাটশিল্পের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

এক সময় যে পাটকাঠি কৃষকের কাছে ছিল অবহেলার বস্তু, সেই পাটকাঠিই এখন বাড়তি আয়ের পথ দেখাচ্ছে। পাটের সঙ্গে পাটকাঠির বাজার সম্প্রসারণ হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটছে, খুলছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top