মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় রোগীর পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ৪২ দিন পর ঢাকা কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মন্ডল (৩৫) নামে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত কনিকা মন্ডল রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী। বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, তিন সন্তান ও স্বজনদের রেখে গেছেন।
নিহতের স্বামী অশান্ত মন্ডল জানান, গত ২৯ জুন কনিকা মন্ডলকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসক লক্ষী রানী দত্ত সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তার কন্যাসন্তান প্রসব করান। অপারেশনের পরদিনই কনিকার পেট ফুলে যায় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩ জুলাই তাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৭ জুলাই তার পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ পাওয়া যায় বলে দাবি করেন স্বামী অশান্ত মন্ডল। ওইদিনই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গজগুলো বের করা হয়।
অশান্ত মন্ডল বলেন, “আমার স্ত্রীকে নিয়ে অনেক আশা ছিল। কিন্তু ভুল চিকিৎসার কারণে আজ আমি সন্তানদের নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি। আমাদের দুই মাসের একটি সন্তান রয়েছে। আরও দুটি ছোট ছেলে আছে। এখন তাদের নিয়ে কীভাবে বাঁচব, বুঝতে পারছি না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর চিকিৎসক লক্ষী রানী দত্ত তার হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন। ওই বার্তায় চিকিৎসক ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক লক্ষী রানী দত্তের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার খেয়াল নেই, একটু পরে ফোন দিচ্ছি।” এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সমরিতা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নোট: রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।