মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
‘সিজারের পর দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই, দেড় মাস পর মৃত্যু’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে মৃত কনিকা রানীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে কনিকার পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে কনিকা রানীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসায় অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে চিকিৎসা অবহেলার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতেই আমি এখানে এসেছি। সরকার এই পরিবারের পাশে থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখান থেকে উত্তরণে সরকার কাজ করছে। জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়নেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কনিকা রানীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। পরিবারের অভিযোগ, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর কনিকার পেটে গজ রেখে সেলাই করা হয়েছিল। পরে শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর প্রায় দেড় মাস পর তার মৃত্যু হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সরেজমিনে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তদন্ত কমিটি গঠনের ঘটনায় কনিকার স্বজনরা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।