আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশি হস্তক্ষেপের পর সংগঠনটি জানায়, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই এখন তাদের আন্দোলনের প্রধান দাবি। পাশাপাশি দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বে না।
এর আগে সোমবার দিল্লিতে হাজারো শিক্ষার্থী ও সমর্থক সংসদমুখী মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য ও আন্দোলনকারী মিলিয়ে প্রায় ১৮০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সিজেপির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, আন্দোলন কোনোভাবেই থামানো যাবে না এবং শিক্ষামন্ত্রীকে দায়িত্ব ছাড়তেই হবে।
মঙ্গলবারও দিল্লির যন্তর-মন্তর এলাকায় আন্দোলনকারীরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, বরং প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা–সংক্রান্ত অনিয়ম রোধে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের দাবিও তোলেন।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে মোট ১৭৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অন্যদিকে আন্দোলনের আয়োজকদের দাবি, পুলিশ অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
সিজেপির নেতারা আরও জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক হলেও সরকার এখন পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলোর বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা সিজেপি অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক জনসমর্থন অর্জন করেছে। সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভর্তি পরীক্ষা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের জেরে সংগঠনটির আন্দোলন ভারতের শিক্ষা খাতে অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।