আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের আসামে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে চলতি মৌসুমে রাজ্যটিতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। একই সঙ্গে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে।
আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ) জানিয়েছে, বর্তমানে রাজ্যের ১৬টি জেলা বন্যার কবলে রয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মাত্র একদিন আগেও আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৬৩ হাজার, যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে শিবসাগর জেলায়, যেখানে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চরাইদেও জেলায় পাঁচজন, গোলাঘাটে দুজন এবং জোরহাটে একজন মারা গেছেন।
বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও ত্রাণ কার্যক্রম তদারকির জন্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো সফরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি জানিয়েছেন, উজানের ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বহু মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৪৪টি রাজস্ব সার্কেলের আওতায় ৮৭২টি গ্রাম এখনও পানিতে ডুবে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত। এছাড়া জোরহাটে প্রায় ৮৮ হাজার এবং চরাইদেও জেলায় ৭২ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে ৭১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২ হাজারের বেশি মানুষ অবস্থান করছেন। পাশাপাশি ২০২টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে।
অবিরাম বৃষ্টির কারণে দিখৌ, দিসাং, ব্রহ্মপুত্র, বুড়িডিহিং ও দক্ষিণ ধানসিরি নদীর বিভিন্ন স্থানে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বন্যার প্রভাবে পরিবহন ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রেললাইনে পানি ওঠায় শিবসাগরের শিমালুগুড়ি-নামতিয়ালি এবং শিমালুগুড়ি-সেলেংহাট রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি ট্রেন বাতিল, কিছু ট্রেনের রুট পরিবর্তন এবং বিকল্প বিশেষ ট্রেন পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে ভারতের টেলিযোগাযোগ বিভাগ শিবসাগর, চরাইদেও ও জোরহাট জেলায় আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত বিশেষ ইন্ট্রা-সার্কেল রোমিং সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে কোনো মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক অচল থাকলেও গ্রাহকরা অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জরুরি যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে পারবেন।
প্রশাসনের আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আসামের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া প্লাবিত এলাকায় চলাচল না করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।