আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগের ঘটনার দায় নির্ধারণ, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এখন সময়ের দাবি।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আটক হওয়ার একদিন পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী এসব মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অভিযানের একটি ভিডিও প্রদর্শন করে দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং বিরোধী জোট তাদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে।
রাহুল বলেন, সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম এবং সরকারের ব্যর্থতার কারণে তরুণ সমাজ গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তার ভাষায়, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং শিক্ষা খাতকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেননি। তাই তার পদত্যাগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হামলা চালিয়েছে কিংবা এমন নির্দেশ দিয়েছে, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রসঙ্গ তুলে রাহুল দাবি করেন, গত এক দশকে ভারতে অন্তত ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যার প্রভাব পড়েছে প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থীর ওপর। অথচ এসব ঘটনায় কাউকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, একসময় ভারতের অন্যতম শক্তিশালী খাত হিসেবে বিবেচিত শিক্ষা ব্যবস্থা এখন নানা অনিয়ম ও কারচুপির কারণে সংকটে পড়েছে। প্রতিবছর পরিবারগুলো পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে সেই পরিশ্রম ও অর্থ অপচয় হচ্ছে।
রাহুল আরও বলেন, শুধু পরীক্ষা নয়, কর্মসংস্থানের সংকটও তরুণদের হতাশার অন্যতম কারণ। পড়াশোনা শেষ করার পরও পর্যাপ্ত চাকরির সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। উৎপাদন খাতের দুর্বলতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব এবং সরকারি চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা তার সাংবিধানিক দায়িত্ব। শিক্ষার্থী, কৃষক কিংবা সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবির পক্ষে তিনি ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকবেন এবং প্রয়োজনে তাদের অধিকার আদায়ে সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত রয়েছেন।