আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো করেছে বিরোধী জোট। রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্বে বহাল থাকলে এ ইস্যুতে সংসদে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর নৈতিক দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তাই সংসদে বিষয়টি নিয়ে অর্থবহ আলোচনা শুরুর আগে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে বলে বিরোধীদের অবস্থান।
এদিকে ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্র সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মোদি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের পুনরাবৃত্তি বন্ধে কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারও জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে বিরোধীদের রাজনৈতিক চাপ, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার এখন শিক্ষা খাতে আস্থা পুনরুদ্ধারের বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।