আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যেই জাতির উদ্দেশে নতুন বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সরকার আরও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে শুক্রবার মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস শুধু একটি প্রশাসনিক সমস্যা নয়, বরং লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের স্বপ্নের সঙ্গে জড়িত একটি সংকট। তাই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার ধারাবাহিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অনেককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য দ্রুত নতুন করে পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে পুনরায় পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মোদি আরও বলেন, প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাব অনুমোদনের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত আলোচনার পর সংসদে প্রয়োজনীয় আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরও আন্দোলনকারীদের অবস্থানে পরিবর্তন আসেনি। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের মূল দাবি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। তার মতে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া এই সংকটের রাজনৈতিক দায় এড়ানো সম্ভব নয়।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার প্রশাসনিক পর্যায়েও পরিবর্তন এনেছে। উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত যোশিকে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। তার স্থানে নরেশ কুমার গাঙ্গোয়ারকে উচ্চশিক্ষা সচিব এবং টি. কে. অনিল কুমারকে স্কুল শিক্ষা সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুক্রবার সরকারের বৈঠক হতে পারে। সেখানে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং অন্যান্য দাবির বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবারও দিল্লির যন্তর মন্তরে শত শত শিক্ষার্থী ও তরুণ বিক্ষোভে অংশ নেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি নিয়োগ ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, বেকারত্ব মোকাবিলা এবং সিবিএসইর মূল্যায়ন পদ্ধতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুন শুরু হওয়া এই আন্দোলন ২৮ জুন নতুন গতি পায়, যখন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশনে যোগ দেন। এরপর থেকেই দেশজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।