নিজস্ব প্রতিনিধি:
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে সংসদ সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হলেও সাক্ষাতের দিন-তারিখ ও সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি।
সোমবার নির্বাচন কমিশন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের ফলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হয়েছে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই শূন্য পদ ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে।
চিঠিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুসারে তফসিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আলোচনা প্রয়োজন। সে অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে সংসদ সচিবের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি অন্য নির্বাচন কমিশনাররা এবং ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবও উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া কমিশনের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রশাসনিক সহায়তার জন্য স্পিকারের কার্যালয়ে অবস্থান করবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে অনুষ্ঠিত হয়। এ কারণে প্রথমে সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। সেই তালিকার ভিত্তিতে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে।
গত শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।