নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধকে ঘিরে রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় দফায় দফায় উত্তেজনা, হামলা, পাল্টা হামলা এবং বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বৈঠক করে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।
সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ ওঠে, সাবেক ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক ব্যক্তি প্রক্টর দপ্তরে উপস্থিত হয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে তার পরিচয় ও কর্মকাণ্ড নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে রাকসু নেতাদের সঙ্গে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, একটি অভিযোগের বিষয়ে আলোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে প্রক্টর দপ্তরে ডাকা হয়েছিল। এ সময় সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তির আচরণকে কেন্দ্র করে বিরোধ শুরু হয়। পরে তাকে নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রাকসু কার্যালয়ে গিয়ে হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন রাকসু নেতারা। এতে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং রাকসুর সহ-বিজ্ঞান সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন। হামলার পর দুই পক্ষ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নেয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে অভিযুক্ত পক্ষ গ্রন্থাগারের একটি অংশে আশ্রয় নেয়। পরে সেখানে গিয়ে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেও হামলার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে না দিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতারা। তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
পরে উপাচার্যের সঙ্গে রাকসু, হল সংসদ এবং সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তও পরিচালনা করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।