নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বৈষম্য না রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, ভিআইপি, সিআইপি কিংবা অন্য যেকোনো যাত্রী—সবার ক্ষেত্রেই একই নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করতে হবে এবং কাউকে তল্লাশি প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী বলেন, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। এর অংশ হিসেবে কমিটির আগের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা নিরীক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই মূল্যায়নের ফলাফল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই সম্ভাব্য পর্যবেক্ষণ এড়াতে আইসিএওর নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে আফরোজা খানম বলেন, বিশেষ করে বিদেশফেরত ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আরও উন্নত ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে আধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত এই কমিটির সভার সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর বাস্তবায়ন করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতি এড়াতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত স্ক্যানার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি বিমান চলাচল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।
সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে একাধিক প্রস্তাব ও পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় জোরদার, জাতীয় নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান অনুসরণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয় গুরুত্ব পায়।
এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা বাড়ানো, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেমের (ইউভিএসএস) কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সুপারিশ করা হয়।
সভায় বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অননুমোদিত জনসমাগম, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অবৈধভাবে লাগেজ মোড়ানোর মতো কার্যক্রম বন্ধে ক্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কমিটি মনে করে, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, উন্নত যাত্রীসেবা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের বিমানবন্দরগুলোকে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত করে তোলা সম্ভব হবে।