জীবন বাঁচাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান তজুমদ্দিনের কালাম

খন্দকার নিরব, ভোলা প্রতিনিধি:

একসময় রিকশা চালিয়ে ও মানুষের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাতেন মো. কালাম। কিন্তু প্রায় এক বছর আগে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার ডান হাতের আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাকি আঙুলগুলোও অকেজো হয়ে পড়ে। হাতের তালুর চামড়াও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই থেকে কর্মক্ষমতা হারিয়ে শয্যাশায়ী কালাম। অর্থের অভাবে বর্তমানে থমকে আছে তার চিকিৎসা। পরিবারেও নেমে এসেছে চরম অভাব-অনটন।

কালাম ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর প্রথমে তাকে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার পেট ও হাঁটুর ওপরের অংশ থেকে মাংস নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হাতে প্রতিস্থাপন করেন। বর্তমানে তার পেটের চামড়ার সঙ্গে ডান হাতের তালুর একাংশ জোড়া লাগানো অবস্থায় রয়েছে। হাতটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আরও চিকিৎসা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারের যা কিছু সহায়-সম্বল ছিল, তার প্রায় সবই শেষ হয়ে গেছে। সঞ্চয়ের টাকা ব্যয় করার পাশাপাশি গরু-ছাগল বিক্রি করেছেন কালাম। এমনকি চড়া সুদে ঋণ নিয়েও চিকিৎসার খরচ চালিয়েছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় হলেও এখনো চিকিৎসা শেষ হয়নি। নতুন করে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করার সামর্থ্য নেই দরিদ্র পরিবারটির।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কালাম কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন। চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনো খেয়ে, কখনো না খেয়ে দিন কাটছে তাদের।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মো. কালাম বলেন, “আমি একসময় রিকশা চালিয়ে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতাম। আজ আমি পঙ্গু ও কর্মহীন। আমার পরিবারও না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতির এলাকার মানুষ। রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন—আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিন। আমি আবার সুস্থ হয়ে কাজ করে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি বা সরকার যদি আমাকে সাহায্য করতে চান, তাহলে ০১৩১৯৫৭২২০১ নম্বরে যোগাযোগ করে আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।”

কালামের স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সন্তান, শাশুড়ি ও আমাদের দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা তিনিই করতেন। আজ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংসারে খাবার জোগানোর মতো কেউ নেই। গরু-ছাগল বিক্রি করে এবং ঋণ নিয়ে চিকিৎসার পেছনে সব শেষ করেছি। এখন আর কোনো পথ খোলা নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন, তারা যেন আমার স্বামীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।”

স্থানীয় শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আলমগীর বলেন, “কালাম অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দরিদ্র একজন মানুষ ছিলেন। রিকশা চালিয়ে কষ্ট করে সংসার চালাতেন। দুর্ঘটনার পর তিনি সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে গেছে। কালামের চিকিৎসার জন্য আরও অনেক টাকার প্রয়োজন, যা পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকার মানবিক দৃষ্টিতে এগিয়ে এলে কালাম আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।”

বর্তমানে চিকিৎসার অভাবে শয্যাশায়ী কালাম সুস্থ হয়ে আবার কর্মজীবনে ফিরতে চান। চিকিৎসার ব্যয় মেটানো এবং পরিবারকে অনাহার থেকে রক্ষা করতে তিনি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে জরুরি মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top