চাকরির পেছনে না ছুটে আঙ্গুর চাষে সাফল্য, বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন মুন্না

মোঃ নাঈম ইসলাম, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:

চাকরির পেছনে না ছুটে আধুনিক কৃষির দিকে ঝুঁকে আঙ্গুর চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চরকাদহ কান্দিপাড়ার শিক্ষিত যুবক মোঃ মিজানুর রহমান মুন্না। মাত্র এক বিঘা জমিতে ‘বাইকনূর’ জাতের আঙ্গুর চাষ করে ইতোমধ্যে সাফল্যের মুখ দেখেছেন তিনি। তার বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল ও সবুজ রঙের রসালো, সুস্বাদু আঙ্গুর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশের লিচুর বাগান কেটে প্রায় তিন মাস আগে আঙুর চাষ শুরু করেন মিজানুর রহমান মুন্না। দেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে খুঁজে ‘বাইকনূর’ জাতের আঙ্গুরের চারা সংগ্রহ করেন তিনি। প্রতিটি চারা কিনেছেন ৩৫০ টাকা করে। পরিশ্রম, পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে অল্প সময়ের মধ্যেই তার বাগানে ফলন আসতে শুরু করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিজানের এক বিঘা জমির আঙ্গুর বাগানে সারি সারি গাছে ঝুলছে অসংখ্য আঙ্গুরের থোকা। কোনোটি সবুজ, আবার কোনোটি লালচে রঙ ধারণ করেছে। বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ে আঙ্গুরের দৃষ্টিনন্দন থোকা। ফলন দেখে আশপাশের মানুষও ছুটে আসছেন তার বাগান দেখতে।

মিজানুর রহমান মুন্না জানান, আঙ্গুর চাষে নামার আগে তিনি উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার অভিজ্ঞ আঙ্গুর চাষিদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজের উদ্যোগেই গড়ে তোলেন এই বাগান। শুরুতে অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করলেও ফলন দেখে এখন তারাই প্রশংসা করছেন।

এক বিঘা জমিতে আঙ্গুরের ফলন দেখে উৎসাহিত হয়ে ইতোমধ্যে আরও দুই বিঘা জমি লিজ নিয়েছেন মিজান। সেখানে পর্যায়ক্রমে আঙ্গুরের বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। শুধু নিজে স্বাবলম্বী হওয়াই নয়, মিজানের বাগানে কাজ করছেন স্থানীয় কয়েকজন বেকার যুবকও। ফলে নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদেরও কাজের সুযোগ তৈরি করছেন তিনি।

মিজানুর রহমান মুন্না বলেন, “শিক্ষিত হয়েও চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। আধুনিক পদ্ধতিতে আঙ্গুর চাষ করে সফল হওয়া সম্ভব—এটা প্রমাণ করাই আমার লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আঙ্গুর চাষ করতে চাই।”

তার এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার আরও অনেক বেকার তরুণ আঙ্গুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষিত যুবকদের এমন উদ্যোগ যেমন তাদের স্বাবলম্বী করে তুলছে, তেমনি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক ও স্মার্ট কৃষির মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। মিজানুর রহমান মুন্নার মতো উদ্যোক্তারা সেই সম্ভাবনারই বাস্তব উদাহরণ।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top