মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর কালুখালীতে হামলা লুটপাটের ঘটনায় মামলা হলেও আসামীরা ঘুরছে প্রকাশ্যে। গত দশ দিনেও কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ নিয়ে চরম হতাশায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। উল্টো মামলার বাদী ও তার আত্মীয়-স্বজনদের নানা ভাবে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এ দিকে অভিযোগ রয়েছে মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ বলছে আসামিরা পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় পরিবারটি। গত ১ আগস্ট থানায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্কে কাটছে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে হামিদা বেগম, তার স্বামী ও ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা নগদ ২ লক্ষ টাকা স্বর্নলংকার নিয়ে গেছে। এসম বাঁধা দিতে গেলে বেধড়ক মারপিট, কুপিয়ে জখম করে ফেলে
রেখে যায়। মারপিট করে ঘরে থাকা নগদ দুই লক্ষ টাকা স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায় একই এলাকার বাবুল শেখ, মামুন শেখ, নয়ন মোল্লা, আলম শেখ সহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় নুর শেখ, জুয়েল শেখ ও হামিদা বেগমকে উদ্ধার করে কালুখালী হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ঘটনার ১০ দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামিদা
বেগম বলেন, জীবন শেষ করে দেওয়ার জন্যই ওরা এসেছিল। টাকা স্বর্নলংকার নিয়েছে এরপর আমাকে, ছেলে, ও ছেলের বাপকে মারপিট করেছে। আমি এ ঘটনায় মামলা করেছি। আইনের আশ্রয় নিয়েও কোন সুরাহা হয়নি। পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। আমাদের উপর হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যাতে মামলা তুলে নেই। আমার ভাইকে নানা ভাবে হয়রানি করছে, আমি এর বিচার চাই।
মামলার এজহার সুত্রে জানাযায় গত ৩০ জুলাই রাত ১১ টার দিকে উল্লেখিত ব্যাক্তিরা, অনধিকার প্রবেশ করে ছেলে জুয়েল, স্বামী নূর শেখের উপর আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। এসম তাদের চিচিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ওই দুর্বৃত্তরা।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সোহেল মোল্লা বলেন, আসামিদের খোঁজা হচ্ছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামী গ্রেপ্তারে আমাদের পুলিশ সার্বক্ষনিক কাজ করছে।