মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বারুগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে মুদি দোকান চালিয়ে আসছেন আব্দুল জলিল মন্ডল। মানুষের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে অনেক সময় বাকিতে পণ্য দিলেও সময়মতো টাকা ফেরত না পাওয়ায় এখন আর্থিক চাপে পড়েছেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দিনের পর দিন বকেয়া জমে থাকায় দোকানের পুঁজি ঘুরিয়ে নতুন করে মালামাল তুলতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।
আব্দুল জলিল মন্ডল জানান, স্থানীয় বিভিন্ন মানুষের পাশাপাশি বারুগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বারুগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীও তার দোকান থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য বাকিতে নিয়ে থাকে। বাকি নেওয়ার সময় অনেকেই ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে সময় নিলেও পরে পাওনা টাকা পরিশোধে নানা কারণে দেরি করেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে তার দোকানে বকেয়া টাকার পরিমাণ জমে যাচ্ছে।
জলিল মন্ডলের ভাষ্য, মানুষের বিপদের কথা বিবেচনা করে তিনি সহজ-সরলভাবে অনেককে বাকিতে পণ্য দিয়েছেন। কিন্তু সেই টাকা সময়মতো ফেরত না পাওয়ায় তার ব্যবসার মূলধন আটকে যাচ্ছে। দোকানের দৈনন্দিন খরচের পাশাপাশি পরিবারের ব্যয়ও রয়েছে। ফলে বকেয়া টাকা আদায় না হওয়ায় নতুন করে পণ্য কেনা এবং স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি কারও সঙ্গে বিরোধে যেতে চাই না। যারা আমার দোকান থেকে বাকি নিয়েছেন, তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী দ্রুত পাওনা টাকা পরিশোধ করলে আমার জন্য অনেক উপকার হবে।’
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জলিল মন্ডল বলেন, তাদের সন্তানরা দোকান থেকে কোনো পণ্য বাকিতে নিয়ে থাকলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বকেয়া টাকা পরিশোধে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
স্থানীয়ভাবে সহজ-সরল ও সহযোগিতাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মনে করেন, একজন ছোট ব্যবসায়ীর জন্য পুঁজি ঘুরিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের পাওনা টাকা ফেরত পাওয়া গেলে তিনি আবারও স্বাভাবিকভাবে দোকানের মালামাল তুলতে পারবেন এবং ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রতি মানবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি বিবেচনা করে যার যার বকেয়া টাকা দ্রুত পরিশোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন আব্দুল জলিল মন্ডল।